এন্টিভাইরাস ছাড়াই কম্পিউটারকে রাখুন ভাইরাস মুক্ত

Standard

আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা সবাই ভাইরাস শব্দটার সাথে পরিচিত। কারন এটি সব কম্পিউটার ব্যবহারকারীর একটি সাধারন সমস্যা। এর থেকে পরিত্রানের জন্য আমরা বিভিন্ন রকম এন্টিভাইরাস ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু তার পরও দেখা যায় ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। কারন সমস্যা হচ্ছে,

2011-01-24_204223১) কোনো এন্টিভাইরাস ই সব ভাইরাস ডিলিট করতে সক্ষম নয়,তা যত ভাল এন্টি ভাইরাস হোক না কেন,কারন কোনো এন্টি ভাইরাসেই সব ভাইরাস ডেফিনিশন দেয়া থাকে না।

২) এন্টিভাইরাস ইন্সটল করার পরে তা র‌্যাম এর কিছু জায়গা দখল করে।তাই ভারি এন্টিভাইরাসের ক্ষেত্রে র‌্যাম এ ব্যবহার করা জায়গার পরিমানও বেশি।ফলে কম্পিউটার স্লো হতে পারে।

সুতরাং, করণীয় কি? হ্যা বন্ধুরা, আমি আমার এই পোষ্টে এই সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে লিখলাম।আশা করি, উপকৃ্ত হবেন।

আসুন প্রথমেই জেনে নিই ভাইরাস কি? এটি কোনো বায়োলজিক্যাল ভাইরাস নয়। বরং এটি এমন একটি প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের স্বাভাবিক কার্যকলাপকে বিঘ্নিত করে।এমনকি সিষ্টেমের মারাত্বক ক্ষতিও হতে পারে (উদাহরনস্বরূপ, কম্পিউটার স্লো হয়ে যাওয়া, অকারণে রিষ্টার্ট নেয়া, টাস্ক ম্যানেজার ডিজেবল হওয়া ইত্যাদসহ আরো অনেক কিছু)

এবার আসুন জেনে নিই ভাইরাস কীভাবে কম্পিউটারে প্রবেশ করে…

  • পেনড্রাইভ, ডিস্ক, মেমরী কার্ড বা অন্য যেকোনো এক্সটারনাল ডিভাইসের মাধ্যমেঃ ভাইরাস আছে এমন ডিভাইস কম্পিউটারে কানেকশান পাওয়ার পরে যখন আপনি তা ওপেন করবেন তখন।
  • ইন্টারনেট থেকেঃ যখন আপনি ভাইরাস আছে, এমন কোনো সাইটে প্রবেশ করবেন।

চলুন এবার জেনে নিই এক্সটারনাল ডিভাইসের ভাইরাস থেকে কিভাবে পিসি কে মুক্ত রাখতে পারি। আপনাদের জন্য ধাপে ধাপে নিচে বিষয়টি উপস্থাপন করা হল।

১) যেহেতু ভাইরাস ইনফেক্টেড এক্সটারনাল ডিভাইস(যেমন পেনড্রাইভ) ওপেন করার পরেই ভাইরাস পিসিতে প্রবেশ করে, তাই এগুলো পিসিতে কানেকশান দেয়ার পরে তা ওপেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাবছেন, তাহলে ডাটা ট্রান্সফার করবেন কীভাবে? এই ব্যাপারে একটু পরেই বলবো।

২) কখনো কখনো এক্সটারনাল ডিভাইস পিসিতে কানেকশান পাওয়ার সাথে সাথে তা নিজে  থেকেই ওপেন হয়। ফলে, ভাইরাস পিসিতে প্রবেশ করে ফেলে। তাই কোন ডিভাইস যেনো সয়ংক্রিয়ভাবে ওপেন না হয় তাই নিচের পন্থা অনুসরন করতে পারেন।

ক) start থেকে run এ গিয়ে টাইপ করুন, gpedit.msc। এরপর ok বাটনে ক্লিক করুন।

1

2

খ) এর ফলে নিচের মত একটি উইন্ডো দেখতে পাবেন। এই উইন্ডো থেকে computer configuration সিলেক্ট করুন।

3গ) এখান থেকে administrative tamplates-> system  এ যান। এখানে নিচের মত উইন্ডো পাবেন। এখান থেকে turn off autoplay তে ডাবল ক্লিক করুন।

4ঘ) নিচের মত উইন্ডো পাবেন। এখান থেকে “turn off autoplay” enable করুন এবং এর নিচে লেখা “turn off autoplay on” ড্রপ-ডাউন বক্স থেকে “All drives” সিলেক্ট করুন, এরপর ok বাটনে ক্লিক করুন।

এখন কোনো পেনড্রাইভ পিসিতে প্রবেশ করালেও তা আর নিজে থেকে খুলবে না।

২) এখন ডাটা ট্রান্সফার করবেন কীভাবে? এর জন্য আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যেনো, পেনড্রাইভ বা অন্য যে কোনো ডিভাইস যা আপনি পিসিতে লাগিয়েছেন তা যেনো না খুলেই তা থেকে ডাটা নিতে পারেন। এজন্য আপনাকে ছোট্ট একটি সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে। ভয় পাবেন না। এর সাইজ মাত্র ৪১০ কিলোবাইট। ডাউনলোড করুন এখান থেকে।

সফটয়্যারটি ইন্সটল করার পরে রান করলে নিচের মত উইন্ডো পাবেন যার বামপাশে আপনার পিসির সব ড্রাইভগুলো দেখা যাবে। যেকোনো ড্রাইভে ক্লিক করলে এর ডানপাশে ঐ ড্রাইভের কন্টেন্ট দেখতে পাবেন। এখন বামপাশ থেকে পেনড্রাইভটি সিলেক্ট করলে ডানে এর ডাটা দেখতে পাবেন। যদি এতে ভাইরাস থাকে,তবে তাও দেখতে পাবেন (এমনকি hidden ফাইলও)। এখান থেকে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো নিয়ে নিন,আর পেনড্রাইভের ভাইরাসকে পেনড্রাইভেই রেখে দিন। (উল্লেখ্য,কোনো ফোল্ডারের নামের সাথে .exe এক্সটেনশান থাকলে তা অবশ্যই ভাইরাস,এগুলো কপি করা থেকে বিরত থাকুন।)

লক্ষ্য করুন উপরে বামে পেনড্রাইভে ক্লিক করার ফলে ডানপাশে এর কন্টেন্টগুলো দেখা যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে .exe এক্সটেনশানযুক্ত একটি ফোল্ডার(hasjfdh.exe) আছে। এটি একটি ভাইরাস।

৩) যারা ভাইরাস সনাক্ত করতে পারেন না,তারা এমন কোনো থিম ব্যবহার করতে পারেন যা ফোল্ডারের কালার বা চেহারা/আইকন change করে,ফলে আপনার পেনড্রাইভের এবং পিসির ফোল্ডারের কালার বা চেহারা/আইকন change হবে (উদাহরনস্বরূপ,আপনি universal vista inspirat Brico Pack Ultimate 2 1.0 ব্যবহার করতে পারেন। ডাউনলোড করুন এখান থেকে।) কিন্তু যেসব ফোল্ডারের চেহারা/আইকন পরিবর্তিত হবে না, সেগুলোই হলো ভাইরাস। এছাড়াও পেনড্রাইভে অনাকাঙ্খিত বা উদ্ভট টাইপের কন্টেন্ট থাকলে সেগুলোও ভাইরাস হিসেবে আপনি ধরে নিতে পারেন।

৪) কাজ শেষে পেনড্রাইভটি খুলে ফেলুন ভাইরাসসহ অথবা যদি চান তবে ফরম্যাটও করে আপনার পিসির ডাটা এতে ট্রান্সফার করতে পারেন।

উপরোল্লিখিত উপায়ে আপনি ভাইরাস থেকে পিসিকে মুক্ত রাখলেও আপনার পিসিতে যদি আগে থেকেই ভাইরাস থাকে সেক্ষেত্রে কি করবেন? তার জন্য আপনি কয়েকটি এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করে (যেহেতু একটা এন্টিভাইরাস সব ভাইরাস নাও ধরতে পারে) নিশ্চিত করুন যে, আপনার পিসিতে আর কোনো ভাইরাস নেই। তারপর উপরের পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।

যদি এমন হয় যে, আপনার পিসিতে আগে থেকেই ভাইরাস ছিলো এবং এর ফলে আপনি এন্টিভাইরাস ইন্সটলই করতে পারছেন না, তাহলে আপনি স্ক্যান করবেন কিভাবে? আপনি হয়তো বলবেন এক্সপি সেটআপ দিলেই সব ঠিক হবে। কিন্তু ভাইরাস যদি সিষ্টেম ড্রাইভে না থেকে অন্য ড্রাইভে থাকে তবে ত এক্সপি সেটআপে কাজ হবে না, কারণ এতে শুধু সিস্টেম ড্রাইভই ফরম্যাট হবে,অন্য ড্রাইভের ভাইরাস অন্য ড্রাইভেই থাকবে। সুতরাং করণীয় কি?

এ নিয়ে পরবর্তী পোষ্টে লেখার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। ততদিন পর্যন্ত বিদায়। ভালো থাকবেন সবাই।

আশা করি আমার এ পোষ্টটি সবার কাজে লাগবে। ভালো লাগলে কমেন্ট করুন, না লাগলেও করুন। আমি আপনাদের মতামত প্রত্যাশী।

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s