unipay2u bangladesh দুদকের জালে পাঁচ হায় হায় কোম্পানি

Standard

দুদকের জালে পাঁচ হায় হায় কোম্পানি

হকিকত জাহান হকি
দুদকের জালে আটকা পড়েছে অনুমোদনহীন পাঁচটি হায় হায় কোম্পানির প্রতারক চক্র। স্বর্ণ ক্রয়, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগের কথা বলে উচ্চমুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সরল-সহজ মানুষের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা। প্রতারণার শিকার হয়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক। এর মধ্যে ইউনিপেটুইউ বিডি লিমিটেড ও ইউনিল্যান্ড লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত প্রতারকরা জনগণের কাছ থেকে ২৬৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৭ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। প্রতারণার ফাঁদ পেতে ইউনিগেটওয়ে ট্রেডিং (প্রা.) লিমিটেড ও বুলিয়নভল্ট লিমিটেড সরলমনা গ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে ৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে কত
টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই
সঙ্গে ইউনিরুটস ট্রেডিং কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণা
করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়ার আদলে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি গঠনের নামে তারা প্রলোভন, প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে গ্রাহকদের ঠকিয়ে আসছিল। বিদেশে এমএলএম কোম্পানিগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ শিল্প ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে গ্রাহক সাধারণকে যথাযথভাবে মুনাফা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে যে তারা গঠন করেছিল নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য, তার প্রমাণ মিলেছে দুদকের তদন্তে।
এসব কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত প্রতারকরা পরস্পর যোগসাজশে নতুন কৌশলে বিনিয়োগ প্যাকেজের নামে এ ফাঁদ পেতেছিল। দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সরকারের অগোচরে সারাদেশের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় শত শত কোটি টাকা। অনুমতি না থাকার পরও তারা নিজেদের
ইচ্ছেমতো চালিয়েছে ব্যাংকিং ব্যবসা। একটি ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর ও উত্তোলন করে মানি লন্ডারিং অপরাধ করেছে তারা।
সূত্র জানায়, ইউনিপেটুইউ ও ইউনিল্যান্ডের সঙ্গে জড়িত প্রতারক চক্র পে-অর্ডার, আন্তঃব্যাংক টান্সফার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক সাধারণের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে মোট ১ হাজার ৩৫১ কোটি ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৯২ টাকা। রাজধানীর নিউমার্কেটে সিটি ব্যাংক শাখা, এলিফ্যান্ট রোডে ব্র্যাক ব্যাংক শাখা ও নারায়ণগঞ্জ শহরে এনসিসি ব্যাংক শাখায় জমা করা হয় ওই পরিমাণ টাকা। এর মধ্যে উত্তোলন করা হয় ৯৩১ কোটি ৬ লাখ ২৬ হাজার ২২৯ টাকা। ব্যাংকিং চ্যানেলে গ্রহকদের দেওয়া হয় ৬৬১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭১ টাকা। বাকি ২৬৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৭ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ওই তিন ব্যাংকের তিনটি শাখায় বর্তমানে স্থিতি আছে ৪২০ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৩ টাকা। জব্দ করা হয়েছে ব্যাংক হিসাবগুলো।
ইউনিপেটুইউর সংগ্রহ করা ১০ কোটি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় ইউনিল্যান্ড লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে। পরে এ টাকায় রাজধানীর বারিধারা আবাসন প্রকল্পে সাড়ে তিন কাঠার চারটি প্লট কেনা হয়।
প্রতারণা করে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাচার করে আত্মসাতের অভিযোগে ইউনিপেটুইউ ও ইউনিল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০৯-এর ৪(২) ধারায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার অভিযোগ তদন্ত করে আদালতে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। মামলায় ইউনিপেটুইউর চেয়ারম্যান ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) আসামি করা হলেও চার্জশিটে এর সঙ্গে যুক্ত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা আসামিরা হলেন কোম্পানির চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মুনতাসির হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মাসুদুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক এম জামশেদ রহমান, উপদেষ্টা মঞ্জুর এহসান চৌধুরী ও আরও এক কর্মকর্তা এইচএম আরশাদ উল্যাহ। আসামিরা ইউনিল্যান্ড লিমিটেড পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।
প্রতারণা করে লাখ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে ইউনিগেটওয়ে ও বুলিয়নভল্ট সংগ্রহ করেছে ৪৭ কোটি টাকা। কোম্পানি দুটি কার্যক্রম শুরুর প্রথম পর্যায়ে ওই পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে। এ পর্যায়ে দুদকের জালে ধরা পড়ে যায় কোম্পানির হোতারা। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ব্যাংকে ২৩টি হিসাবে জমা করা হয় ওই পরিমাণ টাকা। ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়েছে। প্রতারক চক্রের চার সদস্য ইউনিগেটওয়ে ও বুলিয়নভল্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।
সূত্র জানায়, সরলমনা মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৪ টাকা জমা করা হয় সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের দুটি শাখায়। এর মধ্যে রাজধানীর দিলকুশায় সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকে ইউনিপেটুইউর হিসাবে জমা করা হয়েছে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একইভাবে গুলশানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখায় বুলিয়নভল্ট লিমিটেডের হিসাবে জমা করা হয় ২৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩৪ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের এ শাখা থেকে তাদের একটি গোপন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মাহমুদ হাসান ইউনিগেটওয়ে ও বুলিয়নভল্টের চেয়ারম্যান, এমডিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঢাকার গুলশান থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন ইউনিগেটওয়ের চেয়ারম্যান ফজল আবদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুশফিকুর রহমান, বুলিয়নভল্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল ফয়েজ মোঃ জিয়াউর রহমান ও এমডি মাসুদুর রহমান।
প্রতারণা করে গ্রাহক সাধারণের কাছ থেকে ইউনিরুটস ট্রেডিং কোম্পানির অর্থ সংগ্রহের অন্য একটি অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন সহকারী পরিচালক মোজাহার আলী সরদার।

3 responses »

  1. BY reading this blog…….if i take it as true,then what is your roll to mitigate the suffering of all those you have time and again mentioned…..innocent/traped by…….by all this fraud companies……legal fight between Dudak and these companies r everlasting…we do not see any conclusion on this fight…….but all the innocent are suffering–what you can do in this regard ?…you have exposed the fraud compnies face in a manner,side by side you may creat field to get back the money they [ The innocent ] invested……………

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s