সুন্দরবনকে নিয়ে এসএমএস ব্যবসা আমাদের প্রশ্ন

Standard

সুন্দরবনকে নিয়ে এসএমএস ব্যবসা আমাদের প্রশ্ন

বুধবার, ২৭ জুলাই ২০১১

আবদুন নূর তুষার, খালেদ মুহিউদ্দিন, জব্বার হোসেন, মাহমুদুজ্জামান, এডভোকেট হাসান মাহমুদ, মাহফুজুর রহমান মিশু, ফারহানা হেলাল মেহতাব ও কাজল ঘোষ: নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স জুরিক সুইজারল্যান্ডের নাম লেখা একটি ইংরেজি প্রতিবাদপত্রের ভাষ্যের বিপরীতে এই লেখার সূত্রপাত। প্রতিবাদপত্রের তারিখ ২২শে জুলাই, ২০১১।

১. তারা বলেছেন, বাংলাদেশের কোন সংবাদপত্র তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নি। এরপর তারা সাংবাদিকতার নীতিমালা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন যে, এভাবে নাকি গুজব ছড়ায়। তাদের কোন সুস্পষ্ট ঠিকানা নাই, যেখানে তাদের নামে পোস্টে পত্র পাঠানো যায়। তাদের প্রতিনিধি হিসেবে জনৈক রফিকের সঙ্গে সাংবাদিকরা ফোনে কথা বলেছিলেন, যেখানে তিনি সুস্পষ্ট তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যেখানে একটি পক্ষ সুস্পষ্ট ভাঁওতাবাজিতে রত, সেখানে সাংবাদিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য ছাপবেন। যেমন, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা। এখানে অপরাধী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না করেও সংবাদ ছাপা হবে। কারণ, এখানে সত্য সুস্পষ্টভাবে সাংবাদিকের পক্ষে। তারা গুজব বলে কিছু কথাকে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন, কিন্তু প্রকাশিত একটি তথ্যকেও ভুল বা অসত্য বলে উল্লেখ করতে পারেন নি। তাদের ওয়েবসাইটে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কোন লিংক নেই তাবে শপ বলে একটি বাটন আছে যাতে চাপ দিয়ে আপনি পিন, মেডেলসহ নানা রকম পণ্য কিনতে পারবেন। কে তাদের অধিকার দিয়েছে সুন্দরবনের নামে পিন বেচাকেনা করে পয়সা বানাবার?
২. তারা বলেছেন, তাদের নামে সব পজিটিভ অনলাইন কাভারেজ আছে এবং তাদের নামে মিথ্যা সংবাদ ১%-এরও কম। এটা কোনভাবেই তাদের প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা প্রমাণ করে না। এই তথ্যটি তাদের কাজের সঙ্গে বা তাদের সম্পর্কে অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য নয়। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সরকারি ওয়েবসাইটে তাদের কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শতকরা হিসাবে এটি যত কমই হোক না কেন, গ্রহণযোগ্যতার হিসাবে সেটি অনেক বেশি শক্তিশালী।
৩. তারা অভিযোগ করেছেন, ওশেন গ্রুপ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সপ্তাশ্চর্য প্রতিযোগিতার লাইসেন্সকৃত স্পন্সর না হয়ে এটি নিয়ে বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেইন করতে চেয়েছিল। সেটাতে বাধা দেয়াতেই নাকি কিছু সংবাদপত্র এই প্রতিযোগিতার নামে নেতিবাচক খবর ছেপেছে। তাদের আইনে নাকি আছে কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই প্রচারণায় অংশ নিতে হলে তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আবার তারা বলেছেন, সরকারি প্রচারণা, টিভি চ্যানেলে স্ক্রল চালাতে অনুমতি লাগবে না। ব্লগে, ইন্টারনেটে এবং আমাদের মতো যারা এই সংগঠনের ভাঁওতাবাজি নিয়ে লিখছেন, তাদের সঙ্গে কিন্তু তথাকথিত ওশেন গ্রুপের কোন সম্পর্ক নেই। যদি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক হয়, তবে এই অনুমতির জন্য কি কোন পয়সা দিতে হয়? এটা নিয়ে তারা কোন কথা বলেন নি। শুধু তাই নয়, টিভি চ্যানেলগুলো কি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়? তারা বিনা পয়সায় স্ক্রল চালাতে পারলে অন্যরা বিজ্ঞাপন করতে পারবে না কেন? আসলে টিভিতে এসএমএস-এর নম্বর বারবার চালালে যে পরিমাণ এসএমএস ব্যবসা হয় তাদের পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দিলে আনুপাতিক হারে সেটি হয় না। তাই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পয়সা কামানোর জন্য তাদের পলিসি হলো পয়সা নিয়ে লাইসেন্স দেয়া।
৪. তারা নিজেদের স্বচ্ছ ও খোলামেলা সংগঠন বলে গর্ব করেছেন। তারা একটি ওয়েব অ্যাড্রেস দিয়ে বলেছেন, সেখানে গেলে নাকি সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে। সেখানে তারা লিখেছেন এটি একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ। এখান থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করা হবে তাদের ব্যবসায়িক খরচ নির্বাহে, প্রচার প্রচারণায় এবং যদি কোন অর্থ বাঁচে তবে তার ৫০% খরচ করা হবে মূলত স্থানগুলোর থ্রি ডি ডকুমেন্টেশন ও ভার্চুয়াল রেকর্ডিংয়ের কাজে। তারপর তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত সব অর্থই নাকি প্রচার-প্রচারণার কাজে খরচ হয়ে গেছে। কোন অর্থ বাঁচেনি, তবে তারা বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তির একটি থ্রি ডি ডকুমেন্টেশন করেছেন। মজার বিষয়, এই বুদ্ধমূর্তিটি কিন্তু তাদের প্রতিযোগিতার অংশ নয়, কোন বিজয়ী স্থান নয়। তাহলে এটার পেছনে তারা টাকা খরচ করলেন কেন? তারা এখনও আগের প্রতিযোগিতাটিতে বিজয়ী কোন স্থানের জন্য একটি পয়সাও খরচ করেন নি। তাহলে শুধু মুখে মুখে ওয়েবসাইটে লিখে রাখলেই কি সবকিছু হয়ে যায় নাকি? তাদের এই খরচ ও আয় অডিট করে কারা? এই টাকা থেকে কারা বেতন, লাভ ও সুবিধা পান? তাদের এই ব্যবসায়িক উদ্যোগের লাভের বাকি ৫০% কোথায় যাবে? এসব কিছু বলা নেই সেখানে।
৫. জাতিসংঘ এবং ইউনেস্কো নিয়ে তারা বলেছেন, অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও এই সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব নীতিমালার বাধ্যবাধকতার কারণে নাকি এই প্রচারণায় যোগ দিতে পারে নি। কথাটা সত্য বটে। কারণ এই সংস্থাগুলো সমসুযোগ ও সততার নীতিমালা মেনে চলে। যে কোন লোকের মোবাইল বা ফোন থেকে যে কোন সংখ্যায় ভোট দিলে এবং যেমন খুশি তেমনভাবে টাকা পয়সা নিলে, স্বাভাবিকভাবেই কোন ভোট পদ্ধতি সঠিক এবং সৎ থাকে না। একথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেই ইউনেস্কো ২০০৭ সালে এই সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই বলে অফিসিয়ালি ঘোষণা দিয়েছিল। তাদের অসততা ও অস্বচ্ছতা যেখানে কারণ সেখানে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার মতো এই দায় জাতিসংঘের ওপর কি চমৎকারভাবে চাপিয়ে দেয়া হলো! চোরের দোষ নেই, সাধুর দোষ, কারণ সাধু তার নীতিমালার কারণে চোরের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন না। তারপর তারা বলেছেন, তাদের এই সংস্থা নাকি ফিফা এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির আদলে তৈরী। এটাও সর্বৈব মিথ্যাচার। তাদের এই সংস্থার নাম নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স কর্পোরেশন নাকি ফাউন্ডেশন? কারণ, তাদের তৈরী ২০০৭ সালের সকল ভিডিও’র শেষে লেখা আছে কপিরাইট, নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স কর্পোরেশন অথচ অনেক পত্রিকায় তাদের পরিচিতি উল্লেখ করা হয়েছে ফাউন্ডেশন হিসেবে। ফিফা এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি সকল দেশের ফুটবল ফেডারেশন এবং অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে তৈরী সংস্থা। এরা বেসরকারি কিন্তু এদের কাজ ব্যবসা নয়। এরা খেলাধুলার প্রতিযোগিতা করে, যেখানে সরাসরি যোগ্যতার মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচিত হয়। এদের কর্মকাণ্ড সকল রাষ্ট্র সমর্থন করে। ভুঁইফোড় এই সেভেন ওয়ান্ডার্সের নির্বাচিত কমিটি আছে? এখানে সকল রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব আছে? এদের কাজে যোগ্যতা দিয়ে কি কোন বিজয়ী নির্বাচিত হয়? যত খুশি তত ভোট নীতির এই নির্বাচন কি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য? ব্রাজিল কি এসএমএস দিয়ে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়? তাহলে তো বাংলাদেশও এসএমএস পাঠিয়ে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতো। লোকসংখ্যা ও মোবাইল ফোন দু’টোই তো আমাদের বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মপদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে নিরীক্ষা করা হয়। সেভেন ওয়ান্ডার্স তো তাদের ভোটের সংখ্যা প্রকাশই করে না। এ যেন এমন এক ফুটবল খেলা যেখানে গোলের সংখ্যা প্রকাশ না করে খেলা শেষে রেফারি একপক্ষকে বিজয়ী বলে ঘোষণা দিয়ে দিলেন।
৬. তারা বলেছেন, এই প্রচারণা নাকি কোন সরকারি টাকা নিয়ে হয় না। বরং এর ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রচুর আর্থিক লাভ হয়। স্বাধীন গবেষণায় নাকি এটা প্রমাণিত হয়েছে। তারা এমন কোন গবেষণার রেফারেন্স অবশ্য দেন নি। সুন্দরবনের নাকি এতে বিলিয়ন ডলারের লাভ হবে। তারা মালদ্বীপের ও ইন্দোনেশিয়ার কাছে লাখ লাখ ডলার লাইসেন্সিং ফি চেয়েছেন যা সরকারিভাবে এই দেশগুলো বলেছে। যদি সরকারি টাকা নিয়ে এই কাজ না হয়, তবে তারা টাকা চাইলেন কেন? আর পিরামিড যে তাদের প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়েছিল তাতে কি পিরামিডের কোন আর্থিক ক্ষতি হয়েছে? তাজমহল যে জিতেছিল তাতে কি তাজমহলে টুরিস্ট বেড়ে গেছে বা তাদের আর্থিক লাভ হয়েছে? আগে থেকেই পরিচিত এবং বিখ্যাত বিষয়কে আবার পরিচিত করার কি কোন যুক্তি আছে?
৭. তারা দাবি করেছেন, এই প্রতিযোগিতা নাকি দেশে দেশে সংলাপকে উৎসাহিত করে। যেমন মৃত সাগর নিয়ে জর্ডান, ইসরাইল ও প্যালেস্টাইন একসঙ্গে কাজ করছে। এটাই কিন্তু তাদের ব্যবসায়িক কৌশল। একদিকে তারা বলেন, এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক নেই- আবার বলেন, এটা সরকারগুলো সমর্থন করছে, সরকারি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। যেখানে ইসরাইল প্যালেস্টাইনের অস্ত্তিত্ব মানে না সেখানে তারা একসঙ্গে ভোট দিচ্ছে- এই তথ্য সম্পূর্ণ সত্যের অপলাপ। আসলে যেভাবে তারা সুন্দরবনকে দিয়ে দুই দেশ থেকে টাকা কামাচ্ছেন- একই ভাবে তিন দেশ থেকে টাকা কামানোর চেষ্টায় মৃত সাগরকে প্রতিযোগিতায় এনেছেন। তারা মৃত সাগরকে সুন্দরবনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একটি হলো বন, আরেকটি লবণাক্ত সাগর। এ যেন ব্রাজিলের ফুটবলের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের হাস্যকর তুলনা। তারপর তারা বলেছেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বহু মানুষ প্রথম ই-মেইল অ্যাকাউন্ট খুলেছে, এতে ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ঘটেছে। সাইবার ক্যাফে অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতার প্রচারণার সময় এটি করেছে। একটা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট খুলে ভোট দিলেই কি ডিজিটাল ক্ষমতায়ন হয়ে যায়? আর যদি এই প্রচারণার জন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স লাগে, তবে সাইবার ক্যাফেগুলোও তো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তারা কি লাইসেন্স নিয়েছিল? যদি তারা এই প্রতিযোগিতার প্রচারণা লাইসেন্স ছাড়া করতে পারে, তবে সবাই পারবে না কেন? আসলে যার কাছ থেকে টাকা নেয়া যাবে তার কাছ থেকে তারা টাকা নেয়, আর বাকিদের দিয়ে এমন ফ্রি প্রচারণা চালায় মনে হয়, এটা যেন পৃথিবীর সবাই খেলছে।
৮. তারা বলেছেন মালদ্বীপ ও ইন্দোনেশিয়ার কমোডো দ্বীপের বেলায় প্রতিযোগিতার স্বার্থে তারা কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। এটাও হাস্যকর। দেশগুলোর সরকার তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। বাড়ি থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার পর অনুপ্রবেশকারী বলে তিনি নিজেই বৃহত্তর স্বার্থে বের হয়ে এসেছেন, তবে এটি নিয়ে বলা অবান্তর। তারা বলেছেন, একটি গ্লোবাল সংগঠনের দায়িত্বের অংশ হিসেবে এটা নাকি ফিফা, আইসিসি এবং আইওসি’র মতো তারা করেছেন। ফিফা আইসিসি এবং আইওসি সদস্যদের স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে সকল সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের গলা ধাক্কা খাবার বিষয়টি চেপে গিয়ে কি চমৎকার, অসত্য প্রলাপ বকেছেন এই ভাঁওতাবাজ সংগঠনটি।
তারা বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ার অফিসিয়াল সাপোর্টিং কমিটি ছিল তাদের সরকারি পর্যটন সংস্থা। ভুল কর্মকাণ্ডের কারণে তারা এই কমিটির সমর্থন প্রত্যাহার করিয়ে দিয়েছেন, তবে কমোডো দ্বীপ জনগণের সমর্থন নিয়ে প্রতিযোগিতায় আছে। তারা আরও বলেছেন, মালদ্বীপও মে মাসে একই ভাবে প্রতিযোগিতা থেকে সমর্থন কমিটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও মালদ্বীপ নাকি দেশ নয় বরং একটি অঞ্চল হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় রয়ে গেছে। এই প্রতিযোগিতার নিয়ম হিসেবে আমরা শুনেছিলাম, একটি সরকার অনুমোদিত সমর্থন কমিটি থাকা নাকি বাধ্যতামূলক। আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই, এ কারণে  শুরুতে তারা সুন্দরবনকে প্রতিযোগিতার বাইরে রেখে দিয়েছিল? এখন আবার বলছে, কমিটি ছাড়াও নাকি প্রতিযোগিতায় থাকা যায়। দেশ নয়, অঞ্চল হিসেবেও এই প্রতিযোগিতায় থাকা যাবে। তাহলে কক্সবাজার এত ভোট পেয়েও কেন প্রতিযোগিতায় নেই? মগের মুল্লুকের মতো যেমন খুশি তেমন আইন আছে নাকি এই সংগঠনটিতে?
৯. তারা বলেছেন, কিছু ব্যক্তি ও আমলাদের গুজব ছড়ানোর কারণেই নাকি এরকম ঘটনা ঘটেছে  মালদ্বীপ ও ইন্দোনেশিয়াতে। এর কারণ নাকি আবেগ। তারপরও দু’টি দেশই আছে এই প্রতিযোগিতায়। তাদের রেখে দেয়া হয়েছে। দেশের সরকারগুলো থাকতে চায় না, তারপরও এদের রেখে দেয়ার কারণ কি? মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট এবং গোটা মন্ত্রিসভা কি নির্বোধ? রেখে দেয়ার কারণ হলো, এখন এদের বাদ দিলে অনেক বেশি নজর কাড়বে বিষয়টি। তাই তারা চেপে গেছেন পুরো বিষয়টি। তাদের ওয়েব সাইটেও তারা এই বিষয়ে কোন কিছু বলেন নি। এখন অভিযোগ আসায় ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
১০. তারা বলেছেন, এই প্রতিযোগিতা কোন দেশ, সরকারের বা পর্যটন কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়। ফাইনালিস্টদের রাখা না রাখার কর্তৃত্ব কেবল নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্সের। এ কেমন স্বৈরাচার। তাহলে ভোট দিয়ে লাভ কি? কারণ যত ভোটই দেই, শেষ পর্যন্ত সব সিদ্ধান্ত নাকি কর্তৃপক্ষের।
১১. তারা বলেছেন, বহু দেশ এসএমএস-এর মাধ্যমে ভোট দিচ্ছে। এখানে তারা বলেছেন, এই বিষয়টি আমেরিকান আইডল, ইন্ডিয়ান আইডল এবং ক্লোজ আপ ওয়ানের মতো। তারা এটা বলেন নি যে, তারা এখান থেকে টাকা কামাচ্ছেন। আইডল প্রতিযোগিতা অখ্যাত, অজ্ঞাত গানের শিল্পীকে খুঁজে বের করে, তার পিছনে বিরাট অর্থ বিনিয়োগ করে, তাদের জনপ্রিয় করে, পয়সা খরচ করে পণ্যের বিজ্ঞাপন করে। সেভেন ওয়ান্ডার্স কি সেরকম করে? তাজমহলকে কেউ চিনতো না? সুন্দরবন যেখানে ইউনেস্কো ঘোষিত একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেখানে সুন্দরবন চিনিয়ে দিচ্ছি- এমন দাবি করাটি কি হাস্যকর নয়? ফিফা ও আইওসি আমাদের দেশে খেলাধুলার উন্নয়নে প্রতিবছর বরাদ্দ দেয়। সেভেন ওয়ান্ডার্স কি সুন্দরবনকে কোন বরাদ্দ দিয়েছে নাকি উল্টো আমাদের পকেট থেকে পয়সা নিয়ে আমাদের টাকায় কইয়ের তেলে কই ভাজছেন? সেভেন ওয়ান্ডার্স কি কোন দেশে প্রতিযোগী স্থানের উন্নয়নে কোন বিনিয়োগ করেছে? আইডলে তো ভোটের সংখ্যা অনুযায়ী পয়েন্ট পান প্রতিযোগীরা। তারা তো ভোটের সংখ্যা গোপন রেখে দেন যাতে পরে দর কষাকষি করে বিভিন্ন সরকারের কাছ থেকে টাকা নেয়া যায়? এখন তাহলে নোলকবাবু আর সুন্দরবনের একই মর্যাদা?
১২. তারা দাবি করেছেন, যেসব টাকা তারা নিচ্ছেন, সেই টাকা তাদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে সাহায্য করছে এবং সরকারগুলির বাজেটের ওপর কোন চাপ দিচ্ছে না। স্ববিরোধী যুক্তি আর কাকে বলে? একবার তারা বলেন, এই প্রতিযোগিতা কোন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, আবার বলেন- সরকারের বাজেটের ওপর চাপ কমাচ্ছেন। সরকারের প্রভাবমুক্ত থাকতে চান, আবার মালদ্বীপ ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারের কাছে টাকা চান। বাংলাদেশসহ বহু দেশে সরকারি পর্যটন সংস্থাকে এর সঙ্গে যুক্তও করে দেন। সরকারি নয় বলে দাবি করেন, আবার সরকারি সব সংগঠনের সঙ্গে দহরম মহরম করেন। দুবাইতে গিয়ে সরকারি পক্ষের সঙ্গে মিটিং করেন। সরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেন, টেলিটকের কাছ থেকে পয়সা নেন, ভ্যাট মাফ করে দিতে বলেন।
তাদের দীর্ঘ বক্তব্যে কোথাও তারা বলেন নি যে, তারা সরকারগুলির কাছে টাকা চান নি। কোথাও বলেন নি যে, তারা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নন। কোথাও তারা তাদের হিসাব ও আয় ব্যয় নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দেন নি। তাদের প্রতিযোগিতা অবৈজ্ঞানিক, কারণ এখানে এক ব্যক্তি যতখুশি তত ভোট দিতে পারে এবং ভোট বেশি পেলেও তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হেরেও যেতে পারে। তারা বলেন নি, ফিফা বা আইওসি’র মতো তাদের বোর্ডের নির্বাচন কোথায় কখন হয়। কারা সেখানে ভোট দেয়? তারা কেন তৃতীয় কোন অডিট ফার্ম যেমন পিট মারভিককে দিয়ে ভোট গণনা ও অডিট করেন না? এই প্রতিযোগিতার জুরি কারা? কিভাবে তারা নির্বাচিত হলেন? তাদেরকে কে অথরাইজ করেছে, কোন ক্ষমতাবলে তারা আমাদের সুন্দরবনকে রাখলেন আর কক্সবাজারকে বাদ দিয়ে দিলেন? জাতিসংঘ, ফিফা, আইওসি এবং আইসিসি, সরকার সমর্থিত বলে তাদের নৈতিক অধিকার আছে খেলা পরিচালনার। তাদের নৈতিক অধিকারের উৎস কি? একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, যার কোন নৈতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার বা সরকারি সমর্থন নেই, তারা যখন বিশ্বব্যাপী নিজেদের জাতিসংঘ, ফিফা, অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে প্রচারণা করে, তখন আপনারাই বিচার করুন, তারা জালিয়াত কিনা?

http://www.noinvest.com/?ref=regionctg

Airtel

http://www.generatebux.com/?ref=regionctg

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s